মেডিকেলে চান্স পেয়ে ভর্তি নিয়ে চিন্তিত তামান্না

কুড়িগ্রামে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বেলদহ গ্রামের অধিবাসী তারা মিয়া। ভ্যানগাড়িতে বিভিন্ন ধরনের কাপড় নিয়ে হাটবাজারে ফেরি করে বিক্রি করেন। বাড়ি ভিটেটুকু ছাড়া আর কোনো জমি নেই। সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা।

তারই কন্যা তারজিনা তামান্না আক্তার। এবার এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির হওয়ার সুযোগ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। গত ৪ এপ্রিল বিকেলে ঘোষিত এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে তারজিনা তামান্না আক্তারের টেস্ট স্কোর ৭১.৫, মেরিট স্কোর ২৭১.৫ পেয়ে মেধা তালিকায় স্থান ২২৬৭ নম্বরে।

এই অর্জনে পরিবার-পাড়া প্রতিবেশী সবাই খুব খুশি। খুশি তামান্নাও। তারপরও চিন্তিত। কারণ দারিদ্র্যতা তার স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তামান্নার দরিদ্র পিতা তারা মিয়ার কপালেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

মেধাবী তামান্না জয়মনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এরপর ২০২০ সালে ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সব বিষয়ে আশি’র বেশি নম্বর পেয়েছেন।


তামান্না’র পিতা তারা মিয়া জানান, মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য আরডিআরএস নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন। তবে তামান্না এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ায় ওই এনজিও দু’বছর ২৪ হাজার টাকা বৃত্তি হিসেবে দিয়েছে। বৃত্তির এই টাকা খরচ না করে সেই টাকা দিয়ে মেয়েকে রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তি করেছিলেন।

আর তামান্নার অনলাইনে ক্লাস করার জন্য মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তি মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছিলেন।

তামান্না জানান, মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে খুব খুশি হয়েছেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে ভর্তি এবং লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ‍্যক্ষ খালেদুজ্জামান জানান, তামান্না খুব মেধাবী। এজন্য কলেজে লেখাপড়া করার সময় তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন অর্থাভাবে তার মেডিকেল কলেজে ভর্তি এবং লেখাপড়া যাতে বন্ধ হয়ে না যায় এজন্য সহৃদয় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন এই শিক্ষাবিদ।

error: Content is protected !!