‘জনগণের ট্যাক্সের ১৩৫ কোটি টাকা হেফাজতকে ফেরত দিতে হবে’

২৬ মার্চের ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৩৫ কোটি। এই টাকা তো সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা। এখানে তো সরকারের কোন লাভ বা ক্ষতি হচ্ছে না। জনগণের এই টাকা কি হেফাজতে ইসলাম ফেরত দেবে? জনগণের ট্যাক্সের টাকা হেফাজতকে ফেরত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসাইন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হেফাজতে ইসলামের সারা দেশে তাণ্ডবের ঘটনার প্রতি নিন্দাও জানিয়েছে।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পার্টির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন এসব কথা বলেন।

দলটির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে সরকার, প্রশাসন, সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও হেফাজতে ইসলাম নিয়ে যে এক চতুর্মুখী সংঘর্ষ সারা দেশে দেখা যাচ্ছে তা সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা কেড়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, যেকোনো প্রকার আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীকে দল-মত-নির্বিশেষে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা রাখে পুলিশ। সে দিন যদি বায়তুল মোকাররম মসজিদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোন হেফাজত কর্মী অথবা সাধারণ জনগণ কোন প্রকার রাজনৈতিক উস্কানিমূলক অথবা অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড করে থাকে তবে নিঃসন্দেহে পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগ করে সেটাকে দমন করা উচিত ছিল।


ইসমাইল হোসাইন বলেন, গত ২৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে ভয়ানক অগ্নিসংযোগ ঘটায় মাদ্রাসার ছাত্ররা, সেটা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে মোট ৩১টি সরকারি প্রশাসনিক ভবন, রেল স্টেশনে অগ্নিসংযোগ ঘটায় মাদ্রাসার ছাত্ররা। হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় কর্মীদের থেকে যে বক্তব্য ছিল তা কিছুটা এমন যে, বায়তুল মোকাররম ও হাটহাজারীতে পুলিশের গুলি বর্ষণের ফলে ছাত্রদের নিহত হওয়ার প্রতিশোধ স্বরূপ এই অগ্নিসংযোগ।

তিনি আরও বলেন, যদি হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের কোন প্রকার উস্কানি বা ইন্ধন ছাড়া ছাত্ররা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করে ফেলতে পারে, তাহলে হেফাজত ইসলামের নেতৃবৃন্দের ভূমিকা কি? তাদের কর্মীরা কি তাদের নেতাদের দিকনির্দেশনার কোন তোয়াক্কা করে না? এটা কি একটি সংগঠনের নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের চরম ব্যর্থতা নয়? নিছক দায় এড়ানোর ভাব করে এত বড় অগ্নিসংযোগের ঘটনার দায় কি হেফাজত ইসলাম অস্বীকার করতে পারবে?

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা শাইখুল হাদিস প্রিন্সিপাল শাহাদাত হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শাহ মো. ওমর ফারুক, হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবেদীন, হাফেজ মাওলানা মুফতি শহিদুল ইসলাম, মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক, খতিব আল্লামা হযরত মাওলানা তাহেরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহসিন চৌধুরী, হাফেজ মাওলানা আব্দুল আজিজ প্রমূখ।

error: Content is protected !!