দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছি: মমতা

রাজ্যরাজনীতিতে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ কী হাত বদল করতে যাচ্ছে, না-কি মমতার ছত্রছায়ায়ই থাকছে, সেই প্রশ্ন আর বেশি দূরে নয়। রোববার (২ মে) সকাল ৮টায় থেকে শুরু হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। গণনা শুরুর কিছুক্ষণ পরই আভাস মিলেছে আবার ক্ষমতায় ফিরছে তৃণমূল।

অন্যদিকে জয়ের আভাস পেয়েই কালীঘাট মিলন সংঘের সামনের মাঠ সেজে উঠেছে সবুজ কার্পেট আর চেয়ারে। ইতোমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে গেছেন তৃণমূলের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আসছেন তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরও। এখানেই শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল মিটিংয়ে আবার রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করবেন। তিনি এই সবুজ কার্পেট ঢাকা, জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো প্যান্ডেল থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখবেন।

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশের আগেই বলেছেন, ‘রাজ্যে আবার দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভায় যে ফলের ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে সেটা বদলে যাবে। যত রাউন্ড বাড়বে দেখা যাবে তৃণমূলই সেখানে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জিনিউজ জানিয়েছে, করোনাবিধির কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে আসতে পারছেন না সমর্থকরা। তাই যেকোনও মুহূর্তে ভার্চুয়ালি কালীঘাট মিলান সংঘের জায়ান্ট স্ক্রিনে হাজির হবেন মমতা। এখন সেটার অপেক্ষায় সবাই।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০৩ আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৮৬ আসনে। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট কোনো আসনেই এগিয়ে নেই।

রোববার (২ মে) ভারতীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগণনা। সব ভোট গণনা শেষ হতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যেতে পারে। বিধানসভার মোট আসন ২৯৪টি থাকলেও নির্বাচনের মধ্যে দুই প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়। ফলে সকাল থেকে ২৯২টি আসনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই।


দেখা যাচ্ছে, সময় যত বাড়ছে, ততই বিজেপির সঙ্গে ব্যবধান বাড়াচ্ছে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। এখন পর্যন্ত প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষ হয়েছে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে। সেখানে তৃণমূল-বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে প্রচণ্ড লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এখনই বলা যাচ্ছে না কোন দল ক্ষমতায় আসছে বা কোন দল জিততে চলেছে বা হারছে। কারণ, প্রতিটি কেন্দ্রে কয়েক রাউন্ড ভোট গণনা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র নন্দীগ্রামে পিছিয়ে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এগিয়ে গেছেন তারই একসময়কার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র শুভেন্দু অধিকারী।

টালিগঞ্জের তারকা প্রার্থী হিসেবে বিজেপির হয়ে নির্বাচন করা রুদ্রনীল ঘোণ, যশ দাশগুপ্ত, তনুশ্রী চট্টোপাধ্যায়, পার্নো মিত্র, পায়েল সরকার, শ্রাবন্তী চট্টপাধ্যায় পিছিয়ে আছে। তবে হিরণ চট্টোপাধ্যায় এগিয়ে আছে।

২৯২টি আসনে আট দফায় হয়েছে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। গত ২৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল ভোট প্রক্রিয়া। যা গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে। সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরের সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের করোনাভাইরাসে মৃত্যু হওয়ায় সেই দুই আসনে নির্দিষ্ট দিনে ভোট হয়নি। আগামী ১৬ মে সেখানে ভোট হবে। ফলপ্রকাশ হবে আগামী ১৯ মে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে ২৯৪ আসন-বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। এরই মধ্যে তৃণমূল সে ফিগার ধরে ফেলেছে বলে দেখা যাচ্ছে।

তিন দশকের বেশি সময়ের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক দশক আগে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় বসেছিল মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। তখন তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মূলত বাম ও কংগ্রেস। এবারই সরাসরি বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলে আসছেন বিশ্লেষকেরা।

অথচ পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি এই রাজ্যে মাত্র তিনটি আসনে জয় পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে সেই বিজেপিই ১৮টি আসন দখল করে। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে বিজেপির জনপ্রিয়তা। তৃণমূলের অনেক সংসদ সদস্য বিজেপিতে যোগ দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিয়মিতই এ রাজ্যে সভা-সমাবেশ করে গেছেন।

error: Content is protected !!