৫২ হাজার নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন এই তরুণী

বস্তি ও প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের গরীব অসহায় নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষাগত উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রশিক্ষণ ও দুর্যোগে-দুর্ভোগে তাদের পাশে গিয়ে দাড়িয়েছি।

বাল্যবিবাহ, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার, তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা নারীসহ অন্যান্য নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছি, আলাপচারিতায় এমনটিই জানান আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইসরাত করিম ইভ।
ইসরাত করিম বলেন, কিশোরী ও তরুণীদের আমরা শিখিয়ে থাকি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব। তাদের যৌন নিপীড়ন থেকে বাঁচার কৌশল ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সামাজিক-মানসিকভাবে কাউন্সিলিং করি।

চর অঞ্চলের মেয়েদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ রোধ ও যৌতুকের অভিশাপের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি নিয়মিতই। ২০১৫ সালে আমাল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই তরুণী গড়ে তোলেছেন নারীদের কারিগরি শিক্ষাদানকেন্দ্র যেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা।

এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেছেন তিনি যেখানে সেবা দিচ্ছেন আমাল ফাউন্ডেশনের কর্মীরা আর বিনামূল্যে সেবা নিচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ, প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ ও রোহিঙ্গারা।

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সারাদেশ ব্যাপী ‘রুখে দাড়াও নামে’ ক্যাম্পেইন চালায় আমাল ফাউন্ডেশন, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মেয়েরা নিজেদের রক্ষা করার কৌশল শিখে।

নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নারীদের মাঝে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাইমেশিন বিতরণ করেন, এ বছর পবিত্র মাহে রমজানে আমাল ফাউন্ডেশন শতাধিক নারীকে যাকাতের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে শতাধিক ছাগল দিয়েছেন।


সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫২ হাজারের বেশী নারীকে স্বাবলম্বী করতে পাশে দাড়িঁছেন বলে জানান আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইসরাত।
নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসরাত করিম বলেন, সন্তানদের পারিবারিক শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে এবং নারীর প্রতি সম্মানের ব্যাপারটি শিখিয়ে পড়িয়ে বুঝিয়ে দিতে পারলেই সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে।

এছাড়া প্রত্যেক এলাকায় তরুণরা যদি কোন কমিটি গড়ে তোলে, অন্যায় হলে বা হতে চলেছে এমন অবস্থায় সেই তরুণরা কঠোরভাবে অবস্থান নিলে নারীর প্রতি সহিংসতাসহ সবধরনের অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে মনে করেন এই তরুণী।

মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করা ইভ সুফলও পেয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফোর্বস ম্যাগাজিন প্রতিবারের মতো ২০২০ সালে ঘোষণা করে তাদের চোখে এশিয়ার সফল অনূর্ধ্ব ৩০-এর মধ্যে ৩০ জন তরুণের নাম।

সেই তালিকায় সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ ক্যাটাগরিতে স্থান পান সামাজিক সংগঠন আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইশরাত করিম ইভ। ফোর্বসের ওয়েবসাইটে তরুণ উদ্যোক্তা ইসরাত করিম ইভকে নিয়ে লেখা হয়, ‘বাল্যবিবাহ, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার, তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করেন তিনি।

জন্মস্থান বগুড়ায় শৈশব কাটানো এই নারী থাকছেন ঢাকায়, স্বপ্ন নারীর পুরুষের সমতা সমাজে ফিরিয়ে আনার। ইসরাত করিম ইভ এর স্বপ্ন সমাজকে এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার।

যেখানে নারীদের পারিশ্রমিক দেওয়া হবে পুরুষের সমান, দেখা হবে সম্মানের চোখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা এই নারী জানান আপাতত সমাজ নিয়ে ভাবতে ভাবতে নিজেকে নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে ‘আমাল ফাউন্ডেশন’ এর জন্য তার মতো আরও দশজন নারীকে তৈরি করার পর পিএইচডি করবো।

লেখক : মোশারফ হোসাইন।

error: Content is protected !!