ভারতের হাতে ‘ভয়ঙ্কর’যুদ্ধবিমান রাফাল, উদ্বিগ্ন পাকিস্তান-চীন!

সম্প্রতি ভারতের হাতে এসে পৌঁছেছে ভয়ঙ্কর যুদ্ধবিমান রাফাল। এতে করে দেশটির সমরিক শক্তি অনেকটাই বেড়ে গেছে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু এই ঘটনায় ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান-চীন।

ভারতের জনপ্রিয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার ফ্রান্স থেকে পাঁচটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতে এসে পৌঁছায়। এরপরই ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করে ভারতের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। ভারতের এই শক্তিবৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন চীনও। যদিও মুখে সেই কথা স্বীকার করছে না তারা। শুধু ভারত যাতে কোনো রকম আগ্রাসী পদক্ষেপ না নেয়, তা নিয়ে দিল্লিকে সতর্ক করেছে বেইজিং।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারতের বিমান বাহিনীর প্রধান বিএস ধানোয়া শুধু নন, রাফালের অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই ‘গেমচেঞ্জার’ বলছেন। বলা হচ্ছে, দক্ষিণ-এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যে ভারতের অনেকটাই শক্তি বাড়াল রাফাল। ভারতের এই এগিয়ে থাকাটাই ভাবাচ্ছে ইসলামাবাদকে। হরিয়ানার অম্বালা বিমান ঘাঁটিতে রাফাল নামার পর-পরই ভারতের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে পাকিস্তান ও চীনের।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আয়েশা ফারুকি সাংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতের এই অকারণে অসঙ্গতিপূর্ণ অস্ত্র মজুতের লক্ষণ ভালো নয়। আর তা ছাড়া, অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান যেভাবে পারমাণবিক অস্ত্রবহনে সক্ষম, তাতে আরো স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভারতের ইচ্ছের কথা। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের আশঙ্কা, দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে এ বার শুরু হবে অস্ত্র কেনার দৌড়। শান্তির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মুখে। ভারতকে ঠেকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক মহলেরও হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ইসলামাবাদ। রাফাল ভারতে আসার পর-পরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে বলতে শোনা গিয়েছিল, যারা ভারতের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে চায়, তারা এ বার সাবধান হয়ে যাক। পাল্টা খোঁচা দিতে ছাড়েনি বেইজিংও।

কিন্তু রাফাল নিয়ে কেন এত উদ্বেগ দু’দেশের? আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেকেই বলছেন, আসলে এটা ভয়। ১৯৯৭ সলে রাশিয়ার থেকে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান কেনার ২৩ বছর পরে ভারতের এই রাফাল কেনায় চমকে গিয়েছে দুই দেশ। এখন তাই কেউ আগাম নালিশ করে, কেউ সতর্ক করে জল মাপতে চাইছে। এটা প্রায় স্পষ্ট যে, প্রযুক্তিগতভাবে রাফাল যতখানি এগিয়ে, চীন বা পাকিস্তান কারো কাছেই এর পাল্টা জবাব নেই। সেই কারণেই এত বিচলিত দুই দেশ।