তাদের ত্যাগের কথা কেউ জানে না

মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পশু কোরবানির মাধ্যমে ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে সারাবিশ্বে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ শেষ করেই ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই।
এতো গেলে প্রকাশ্য ত্যাগের কথা। কিন্তু এর বাইরেও আমরা যাদের কাছ থেকে কোরবানি দেয়ার জন্য পশু কিনি, তাদের ত্যাগের কথা কি কেউ জানি? নিজেদের লালন-পালন করা পশুটি আর্থিক প্রয়োজনে বিক্রি করে দেয়ার পরে তাদের অনুভূতি কেমন হয় তা আমরা জানি?

উত্তর ‘না’। আমরা পশু কিনে সোজা বাসার দিকে হাঁটা শুরু করি। কিন্তু একবার যদি পেছনে ফিরে তাকাই তাহলে এর করুণ মুহূর্ত আমাদের সামনে আসবে। যেটা আমাদের কাছে কোরবানির পশু, সেটার জন্য অন্য কারো অঝোরে কান্নার কারণ।

সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশ-এ ‘পশুর হাটে কাঁদল শিশুটি, কাঁদাল সবাইকে’ শিরোনামের একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে একটি পশুর প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসার কথা।

চার বছর আগে একটি গরু কিনেছিলেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়দল গ্রামের চিত্ত পালমা। এতদিন পরম যত্নে পালনের পর এবারের কোরবানির পশুর হাটে এনেছেন বিক্রির জন্য।

বাবার সঙ্গে হাটে এসেছে আট বছরের শিশু চাঁদনি। গরুটির পালনে তার ভূমিকাও কম নয়। বাবার মতো সেও আদর-যত্ন করেছে পশুটির। তাই তো হাটে গরুটি বিক্রির সময় অঝোরে কেঁদে ওঠে চাঁদনি। তার কান্না ছুঁয়ে যায় হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও।

এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে আরো বেশ কিছু ছবি। যেখানে এমন করুণ দৃশ্য উঠে এসেছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে এক মহিলা তার ছাগলটি বিক্রি করার পরেও মায়ার কারণে ছাগলকে নিজ হাতে শেষ খাওয়া খাওয়াচ্ছেন। অথচ তার হাতের মধ্যে থাকা টাকার পরিমাণও ধরে রাখতে পারেনি চোখের পানিকে।

অন্যদিকে আরো এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক রাখাল তার গরু বিক্রির পরে শেষবারের মতো তার বুকে আগলে ধরেন। আর গরুটিও যেন বুঝে গেলো এটাই তার মালিকের সঙ্গে শেষ দেখা। তাই গরুটিও রাখালের সঙ্গে নিজের মাথা দিয়ে মমতায় আগলে ধরে রেখেছে।

আরো এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নিজের পশু বিক্রির পর ওখানেই বসে অঝোরে কাদঁছেন এক গরু বিক্রেতা। প্রথম দেখাতে মনে হবে হয়তো গরু বিক্রি করে তার লোকসান হয়েছে। কিন্তু মুদ্রার অন্যপিঠ কিন্তু বলছে ভিন্ন কথা। নিজের আদরের গরুকে টাকার প্রয়োজনে বিক্রি করে কষ্ট ধরে রাখতে না পারে কাদঁছেন সেই বিক্রেতা।

ভালবাসা যে শুধু মানুষের প্রতিই হয় তা কিন্তু নয়। পশুরাও ভালবাসতে পারে তাদেরও ভালবাসা যায়। আর যার প্রমাণ উপরের ছবিগুলোই।

ডেইলি বাংলাদেশ