Breaking News

ট্রাম্পের পরবর্তী টার্গেট আলীবাবা!

যুক্তরাষ্ট্র চীনের বৃহত্তম প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে টার্গেট করেছে বহুদিন ধরে। ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞার খড়গ পড়েছে চীনা টেক জায়ান্ট হুয়াওয়ে, টিকটক আবার উইচ্যাটের ওপর। এবার নিষেধাজ্ঞা পড়তে পারে বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আর ইন্টারনেট কংলোমারেট আলীবাবার ওপর।

সমালোচকরা বলছেন, বেইজিংয়ের শক্তিশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোর করে পিছিয়ে দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বের অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করছে যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে যেকোন একটি দেশকে বেছে নিতে।

তবে চীনের অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো আলীবাবার ওপর এখনো কোন চাপ প্রয়োগ করেননি ট্রাম্প। আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা বিলিওনিয়ার জ্যাক মা করোনা মহামারীতে বিনামূল্যে পণ্য দেয়ার ঘোষণা দিলে ট্রাম্প বলেন, জ্যাক মা তার বন্ধুই। তবে আলীবাবা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের নজরে আছে।

গেলো সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোকে চীনা মালিকানার যে কোন প্রযুক্তির ব্যবহারই বন্ধ করতে হবে। মার্কিনিদের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যবসা, সম্পত্তি কিংবা কোভিড নাইনটিন ভ্যাক্সিনের গবেষণা, সব তথ্যই চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে নিরাপদ রাখতে চায় ওয়াশিংটন।

বর্তমানে চীন ছাড়াও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে ই-কমার্স প্লাটফর্মটি। ওয়াশিংটনের যে কোন নেতিবাচক পদক্ষেপের কবলে পড়তে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি চীন ছাড়াও যেসব দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে, সবদেশেই ক্ষতির মুখে পড়বে অনলাইন জায়ান্টটি। চীনে আলীবাবার বার্ষিক আয় প্রায় ৭ হাজার ৩শ’ কোটি ডলার। মোট আয়ের ৮০ শতাংশ চীন নির্ভর হলেও ৭ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্ভর। আপাতত কোন সম্ভাবনা না থাকলেও হুয়াওয়ে, টিকটকের পর উইচ্যাটের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়ায় কিছুটা শঙ্কায় চীন।

নিষেধাজ্ঞা এলে যুক্তরাষ্ট্রে যেসব নাগরিক কিংবা প্রতিষ্ঠান উইচ্যাট ব্যবহার করেন সবাইকে তা বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলীবাবার আয় কম হলেও এর ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা বড় পদক্ষেপ হবে বলে মনে করেন প্রযুক্তিবিদরা। যুক্তরাষ্ট্রে টিমল প্লাটফর্ম তৈরি করেছে আলীবাবা, যেন ইংরেজিতে যোগাযোগ আরও সহজ হয়। অ্যাপল, জনসন অ্যান্ড জনসন আর নাইকিসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টিমলে পণ্য বিক্রি করছে।

নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতি শুধু যে চীনের হবে তা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যদি অ্যাপল প্লে স্টোর থেকে উইচ্যাট, টিকটক কিংবা আলীবাবা সরিয়ে নেয়া হয়, তাহলে চীনে জনপ্রিয়তা কমবে আইফোনের। গেলো বছর চীনে ৪ হাজার কোটি ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে অ্যাপল। যা কোম্পানির মোট বিক্রির ১৭ শতাংশ।