বঙ্গবন্ধুর জন্য ৫০ হাজার বার পবিত্র কুরআন খতম দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরর স্বপ্ন দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবো বলে সব শোক ভুলে আছি। আজ শুক্রবার সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সম্পন্ন ৫০ হাজার বার পবিত্র কুরআন খতম ও জাতির পিতার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী’তে অনুষ্ঠেয় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এতিমসহ দেশের সব অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কাজ করবে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ একটা শোক সইতে পারে না। আর আম’রা কী’ সহ্য করে আছি। শুধু একটা চিন্তা করে যে, এই দেশটা আমা’র বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। তিনি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। আমা’র যতটুকু সাধ্য সেইটুকু করে দিয়ে যাবো, যেন তার আত্মাটা শান্তি পায় এবং এই র’ক্ত যেন বৃথা না যায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট শহীদদের স্ম’রণে আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ৫০ হাজারবার কোরআন খতম উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাকে (বঙ্গবন্ধু) যারা হ’ত্যা করেছে, তারা ঘৃণ্য। তাদের বিচার করেছি, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেই শক্তি দিয়েছেন আমাদের। ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে দিয়ে তাদেরকে বিচার করতে পেরেছি। এতে আল্লাহর কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া আদায় করি।

শেখ হাসিনা বলেন, কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণকে, যারা আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এবং আমা’র দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনকে, যারা সব সময় আমা’র পাশে থেকে আমাকে শক্তি জুগিয়েছে, একটা পরিবারের মতো আমি পেয়েছি।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় শোক দিবস। জাতি হারিয়েছে তার নেতাকে, আর আম’রা হারিয়েছি, আমা’র ছোট বোনটি এবং আমি, সেই সাথে আমাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্য, আম’রা আপনজনদের হারিয়েছি হঠাৎ একদিন।

তিনি বলেন, ৮১ সালে আমি দেশে ফিরে আসি। স্বাভাবিকভাবে আমা’র চেষ্টাই ছিল যে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমা’র বাবা সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন, জে’ল-জুলুম-অ’ত্যাচার সয়েছেন এ দেশের সেই মানুষের জন্য কিছু করে যাব সেটাই ছিল আমা’র একমাত্র লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আম’রা বাবা-মায়ের লা’শও দেখতে পাইনি। কবরও জিয়ারত করতে পারিনি। দেশে আসতেও পারিনি। এভাবে আমাদের বাইরে পড়ে থাকতে হয়েছিল। এতিম হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে বিদেশের মাটিতে রিফিউজি হয়ে থাকার কি ক’ষ্ট, এটা যারা আমাদের মতো ছিল তারা জানে।

সরকার প্রধান বলেন, আজ একটা হ’ত্যাকা’ণ্ড হলে সবাই বিচার চাইতে পারে, মা’মলা করতে পারে। আম’রা ১৫ আগস্ট যারা আপনজন হারিয়েছিলাম, আমাদের কারো মা’মলা করবার বা বিচার চাইবার অধিকার ছিল না। সেই অধিকার আদায়ের পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

১৫ আগস্ট ঘা’তকের নি’র্মম বুলেটে শি’শু রাসেল নি’হত হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট ভাইটি আমি এখনো এই প্রশ্নের উত্তর পাই না। তার মাত্র ১০ বছর বয়স। তার জীবনের স্বপ্ন ছিল সে একদিন সে’নাবাহিনীতেই যোগদান করবে। ভাগ্যের কী’ নি’র্মম পরিহাস, তাকে সেই সে’নাবাহিনীর সদস্যরাই নি’র্মমভাবে গু’লি করে হ’ত্যা করল। তার অ’প’রাধ কী’? আমি জানি না।
সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহম’দ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তারা উপস্থিত ছিলেন।