কাতারে কোম্পানির আড়াই কোটি টাকা নিয়ে উধাও ২ প্রবাসী বাংলাদেশি

উপসাগরীয় দেশ কাতার ভিত্তিক ফুড সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ‘কুইক ডেলিভারি’র ১০৫৪২৯৮ রিয়াল ( বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৪৫ টাকা) আ;ত্মসাৎ করে দেশে পা;লিয়ে এসেছে ২ প্রবাসী বাংলাদেশি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ১২০ জন রাইডার চরম অ;র্থাভাবে পড়েছে।
পাশাপাশি কোম্পানিটির ৩ বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠাতাকে ঋ;ণের চা;পে পা;লিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। দেনা পরিশোধ করতে না পারলে তাদের বাংলাদেশে ফেরা তো দূরের কথা দাঁড়াতে হবে কা;ঠগড়ায়। দেশে পালিয়ে আসা অন্য ২ সহ-প্রতিষ্ঠাতার এমন কারণে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি দে;উলিয়া হওয়ার পথে।

ইতোমধ্যে অর্থ উ;দ্ধারে কাতারের দোহারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছেন কোম্পানিটির ৩

জন প্রতিষ্ঠাতা। যাদের দুজন বাংলাদেশি ও একজন কাতারি নাগরিক। আড়াই মাস আগে দূতাবাস থেকে পাঠানো চিঠিতে ঢাকার ডিসি, এসপি ও মিরপুরের ইউএনও এবং ওসিকে দুই প্র;তারকের বি;রুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নি;র্দেশ দিলেও তারা কোনও পদক্ষেপ নেননি।

চলতি বছরের ২১ জুলাই দুই প্রবাসীর বিরুদ্ধে ওই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে করা অ;ভিযোগ (স্মারক-৫৬৮) ও দূতাবাস থেকে দেশে পাঠানো ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা আছে।

দূতাবাসে করা অ;ভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার মিরপুরের (সেকশন-২, ব্লক-সি, রোড-৩, হাউজ-২) বাসিন্দা মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে মুহাম্মদ রফিক ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার উত্তর খামের এলাকার আব্দুল বাতেনের ছেলে

নাজমুল ‘কুইক ডেলিভারি’ কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা। দুজন সুযোগ বুঝে কোম্পানি থেকে প্র;তারণার মাধ্যমে হাতানো বিপুল অর্থ হু;ন্ডির মাধ্যমে দেশে পা;চার করে গত ২০ জুলাই বাংলাদেশে পা;লিয়ে এসেছে।

অ;ভিযোগে আরও বলা হয়, কাতারি নাগরিক হাসান এ কাদির হাসান সালেহ, কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ রনি মিয়া, ইমরান হুসাইন, রুবেল খান এবং অর্থ আ;ত্মসাৎ করে দেশে পালিয়ে আসা মুহাম্মদ রফিক (পাসপোর্ট নম্বর- বিওয়াই ০৯১৯১৩৮, কাতারি আইডি- ২৭৫০৫০১১৯৮৩) ও নাজমুল (পাসপোর্ট নম্বর- বিআর ০৫৭৩১০৭, কাতারি আইডি- ২৭৬০৫০০৪৭১৩) এক বছর আগে অংশীদার ভিত্তিক ‘কুইক ডেলিভারি’ কোম্পানীটি প্রতিষ্ঠা করেন।

যেটি কাতারের খ্যাতিমান ডেলিভারি কোম্পানি ‘তালাবাত’-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। কুইক

ডেলিভারি কোম্পানির ১২০ জন রাইডার তালাবাতের অর্ডার সরবরাহে নিয়োজিত। প্রতিমাসের লভ্যাংশ ও রাইডারদের বেতন বাবদ কোটি টাকা কুইক ডেলিভারি কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দিতো তালাবাত। বাংলাদেশি নাগরিকদের

হাতে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি বেশ সুনামের সঙ্গে সফলতার দিকে এগিয়ে গেলেও সব ভে;স্তে দিয়েছে এই দুই প্র;তারক। একই সঙ্গে তারা ক্ষু;ন্ন করেছে দেশের ভা;বমূর্তিও।

গত ১২ জুলাই ১২০ জন রাইডারের জুনের বেতন বাবদ ৩ লাখ ৯ হাজার ৪৮ রিয়াল (৭১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৭৪ টাকা) ব্যাংকে জমা করে তালাবাত। কিন্তু পাঁচজন অংশীদারের মধ্যে তিনজনকে না জানিয়ে কৌশলে অ;ভিযুক্ত দুজন রাইডারদের বেতনের সব টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আ;ত্মসাৎ করেছে।

একই সঙ্গে কুইক ডেলিভারি’র ১৫টি মোটরসাইকেল প্রতিটি ৯ হাজার ৫০০ রিয়াল বিক্রি করে (২ লাখ ২১ হাজার ১৮২ টাকা) মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ রিয়ালও (৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৪০ টাকা) মেরে দিয়েছে। এ ছাড়াও ভোক্তাদের কাছ

থেকে রাইডারদের সংগৃহীত ক্যাশ অন ডেলিভারির ৫০ হাজার রিয়াল (১১ লাখ ৬৪ হাজার ১১৯ টাকা) তালাবাতের ব্যাংক হিসাবে জমা না করে তারা হা;তিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, কুইক ডেলিভারির ব্যাংক হিসাবের ক্ষ;মতাপ্রাপ্ত এই দুই প্র;তারক কাতারি নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে কোম্পানির চেকের বিপরীতে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৫০ রিয়াল (১ কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩৭ টাকা) হা;তিয়ে নিয়েছে।

উল্লেখিত অ;ভিযোগ আমলে নিয়ে দেশে পালিয়ে আসা দুই প্রবাসীর বি;রুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দোহারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পরামর্শদাতা (শ্রম) ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাপত্র গত ২৩ জুলাই

ঢাকার জেলা প্র;শাসক (ডিসি) ও পু;লিশ সুপার (এসপি), মিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর পাঠানো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত দেশে পা;লিয়ে আসা দুই প্রবাসীর বি;রুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কুইক ডেলিভারি কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও নরসিংদীর বাসিন্দা মোহাম্মদ রনি মিয়া জানান, কাতারি একজন ও বাংলাদেশের চারজন অংশীদার ভিত্তিক ওই কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর মাশরাফ আল রাইয়ান ব্যাংকের করপোরেট শাখায় মেসার্স কুইক ডেলিভারি নামে চলতি হিসাব (নম্বর ১০০-১০৫৪৮৯-০০১০) খোলা হয়।

এই হিসাবের ক্ষ;মতাপ্রাপ্ত (অথরাইজড) তিন জনের মধ্যে অ;র্থ হাতিয়ে নেওয়া মুহাম্মদ রফিক ও নাজমুল রয়েছেন। অপর জন কাতারি নাগরিক হাসান এ কাদির হাসান সালেহ। মূলত রফিক ও নাজমুলই কোম্পানির হিসাব বিভাগটি

পরিচালনা করতেন। সব সময় তারাই আর্থিক বিষয়গুলো দেখতেন। আমাদের কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা পেয়ে গিয়েছিল। হঠাৎই তারা কৌশলে সব অর্থ হা;তিয়ে ও কোম্পানির চেকের বিপরীতে দে;না করে পথে বসিয়ে দিল। এখন পাওনাদারদের

হা;মলা-মা;মলার ভ;য়ে পা;লিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এ কারণে দেশে আসাও অ;নিশ্চিত। এই বি;পদ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা ছাড়া বাঁ;চার উপায় নেই।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আ;ইনশৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর আছে। যেহেতু আ;ইনি বিষয় ত;দন্ত করতে ও আ;সামি ধ;রতে সময় লাগে। বাংলাদেশের পু;লিশ এবং গো;য়েন্দা সং;স্থা এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি স;ক্ষ;ম। আশা করি দ্রুতই তারা বিষয়টির সুরাহা করতে পারবে।

আড়াই মাসেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টা এমন নয় যে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হয়তো আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা আদৌ বাংলাদেশে আছে না অন্য কোথাও পা;লিয়ে গেছে অনেক বিষয় থাকে। সূত্রঃ – সময়ের কণ্ঠস্বর