Breaking News

পিতা হারালেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সিরাজ

সিরাজ রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। বায়ো সুরক্ষিত পরিবেশ থেকে বেরোনোর অনুমতি তাঁর নেই! তাই বাবার শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকতে পারবেন না মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj)।

ট্র্যাজেডি বোধহয় একেই বলে! প্রয়াত হলেন ভারতীয় দলে সদ্য জায়গা করে নেওয়া পেসার মহম্মদ সিরাজের বাবা। আইপিএলে দুরন্ত পারফর্ম করার পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়াল সিরিজের জন্য ভারতীয় দলে চান্স পেয়েছিলেন সিরাজ। কিন্তু ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে ছেলের অভিষেক ম্যাচই দেখা হল না বাবার! ৫৩ বছর বয়সে মারা গেলেন সিরাজের পিতা মহম্মদ ঘাউস। ফুসফুসের রোগে দীর্ঘ দিন ধরে ভুগছিলেন তিনি। এদিন হায়দরাবাদে প্রয়াত হন ৫৩ বছরের মহম্মদ ঘাউস।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য সিডনি-তে বায়ো সুরক্ষিত পরিবেশে রয়েছেন ২৬ বছরের মহম্মদ সিরাজ। ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি যাঁকে আদর করে ‘মিঞা’ বলে ডাকেন। বিসিসিআই-এর কোভিড প্রোটোকল অনুযায়ী, সিডনির সেই বায়ো সুরক্ষিত পরিবেশ থেকে বেরোতে পারবেন না সিরাজ। তাই বাবার শেষকৃত্যে থাকতে পারবেন না তিনি।

সংবাদমাধ্যম স্পোর্টসস্টার-কে সিরাজ বলছেন, ‘আমার বাবার স্বপ্ন ছিল, তাঁর ছেলে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে। আর সেটা আমি করে দেখাবোই।’ কিছু দিন আগেই শেষ হয়েছে চলতি মরশুমের আইপিএল। আর সেখানেই সিরাজ যেমন নিজের ভক্তকূল তৈরি করেছেন, তেমনই আবার নজর কেড়েছেন সিলেক্টরদেরও। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দলের এই ফাস্ট বোলার কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে পরপর দুটি ওভার মেইডেন করেছিলেন, যা আইপিএল ইতিহাসে রেকর্ড। আর তারপরই আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্যও ভারতীয় দলে তাঁকে জায়গা করে দেওয়া হয়।

সিরাজের কথায়, ‘আমার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নপূ্রণ করতে আমার বাবা কোনও কসরত বাকি রাখেননি। অটো অবধি চালিয়েছেন। এটা আমার কাছে খুবই শকিং একটা খবর। আমার জীবনের সবথেকে বড় সাপোর্ট হারালাম আমি। তাঁর স্বপ্ন ছিল, যাতে আমি ভারতীয় দলে খেলতে পারি। আর সেই স্বপ্ন যখন পূরণ হতে চলেছে, তখন তিনি আর নেই!’ পাশাপাশিই সিরাজ আরও বললেন, ‘খবরটা আমি বিরাট এবং শাস্ত্রী স্যারকে জানিয়েছি। তাঁরা আমাকে শক্ত হতে বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে, প্রয়োজনে সবরকম সাহায্য তাঁরা করবেন।’

আইপিএলে একটি ম্যাচে দুর্দান্ত বল করার পরই সংবাদমাধ্যমের কাছে মহম্মদ সিরাজ জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বাবার শরীর খুবই খারাপ। সেই ম্যাচটি ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে। সিরাজ সে দিন মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছিলেন। সে দিন তিনি বলেছিলেন, ‘ম্যাচের আগের দিনই বাবাকে হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আমি খুবই চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু ম্যাচ শেষে যখন বাড়িতে ফোন করি, তখন জানতে পারলাম বাবা বাড়িতে বসেই আমার খেলা দেখেছেন। আর এই খবরটা শোনার পর আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাই!’

সূত্র: এই সময়।