Breaking News

ভিসেরা রিপোর্ট: অতিরিক্ত আঘাতে রায়হানের মৃত্যু

সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্ট পিবিআইর কাছে এসেছে। এতে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর আলামত মেলেনি, অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘গত ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ভিসেরা রিপোর্ট আমাদের কাছে আসে। পরে তা মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
রোববার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে ১৭ অক্টোবর রাতে প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ‘অতিরিক্ত আঘাতের কারণে দেহের অভ্যন্তরের শিরা ফেটে ইন্টারনাল ব্লিডিংয়ে (রক্তক্ষরণ) মারা গেছেন রায়হান।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘মৃত্যুর চার ঘণ্টা আগে থেকে রায়হানকে নির্যাতন করা হয়। তার দেহে ১১১ আঘাতের চিহ্ন আছে। নখও উপড়ে ফেলা হয়। আঘাতগুলো লাঠির। এর মধ্যে ১৪টি জখমের চিহ্ন।’
এরপর ২২ অক্টোবর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই প্রতিবেদনেও অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই রায়হানের মৃত্যু হয় এবং ভোতা অস্ত্রের আঘাতেই তার শরীরে বেশি জখম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর ভোরে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দিন রাতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার। ১৪ অক্টোবর এ মামলার তদন্তভার পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আলোচিত এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে আকবরসহ ৮ জনকে এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।