বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে আম্ফান গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার ,নিহত ৪

উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত বরিশাল ও খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে প্রায় ২৪ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া, করোনা সংক্রমণ রোধে অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে উপকূলীয় জেলাগুলোতে। উপকূল অতিক্রম করে সাতক্ষীরা-খুলনা দিয়ে বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে আম্ফান। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাতভর বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আজ বুধবার বিকেল ৪টা থেকে এটি সাগর উপকূলের পূর্ব দিকে সুন্দরবন ঘেঁষা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ দিয়ে অতিক্রম করছে। অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, মোংলা ও সুন্দরবনের একাংশ দিয়ে আম্পান বাংলাদেশে ঢুকছে। ইতোমধ্যে ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অংশেও ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজারে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাসহ সাত উপজেলার ২১টি ঝূকিপূর্ণ দ্বীপ ও চরাঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে গড়ে ২০০ জন করে রাখা হয়েছে।

ভোলার ঢালচর ও চর কুকরিমুকরিতে পানি ঢুকে অন্তত ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বরগুনায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। তবে ট্রলারে সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বাগেরহাটে গুরুত্বপূর্ণ শরণখোলা বাঁধটি যেকোন মুহূর্তে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের রয়েছে। খুলনা অঞ্চলে নৌবাহিনী পক্ষ থেকে ২৫টি জাহাজ প্রস্তত রাখা হয়েছে উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তার জন্য। চিকিৎসার জন্য ১১৬টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লোন্দা খালে স্বেচ্ছাসেবকবাহী নৌকা উল্টে সিপিপির টিম লিডার শাহালম মীর নিখোঁজ রয়েছেন। তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

You cannot copy content of this page