Breaking News

সুস্থ থাকতে নিয়মিত দুধ খেতে হবে : পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী

সময় ছিল যখন এ দেশে মনে করা হতো—দুধ খায় বোকারা। কিন্তু বুড়ো বয়সে ওই মানুষটিই যখন হাড়ের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান এবং ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন ‘দুধ খেতে হবে’। তখন তাঁর আর আফসোসের সীমা থাকে না। তাই হাড়ের সমস্যা হওয়ার আগেই সবাইকে নিয়মিত দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন অ্যাপোলো হাসপাতাল ঢাকার প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী।

তাঁর মতে, হাড়ের ওপর ভর করেই মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। ভিত্তি মজবুত না হলে যেমন বিল্ডিং টেকসই হয় না, তেমনি হাড় মজবুত না থাকলে শরীর ভালো থাকে না। দেশের অনেকেই গরুর মাংস খাওয়ায় যতটা উৎসাহী, দুধের বেলায় ততটা নন। তবে সময়ের সঙ্গে ইতিবাচক পরিবর্তনও হচ্ছে। দিন দিনই দেশের মানুষ সচেতন হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুধ গ্রহণের পরিমাণ বাড়ছে। ফুড পিরামিডে সব সময় এক গ্লাস দুধের ছবি দেওয়া থাকে। অর্থাৎ শরীর ভালো রাখতে হলে প্রতিদিন দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষের মাংসপেশি আশপাশের দেশের মানুষের তুলনায় বলিষ্ঠ নয়। আমরা মনে করি জিম করলে মজবুত পেশি পাওয়া যাবে। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। আসলে মাংশপেশি তৈরি হয় মূলত প্রোটিন থেকে। দুধ হলো প্রোটিনের অন্যতম উৎস। একজন মা যদি গর্ভাবস্থায় ভালোভাবে দুধ খান তাহলে তাঁর সন্তান ভালোভাবে বেড়ে উঠবে। সন্তানও যদি নিয়মিত দুধ খায় তাহলে তার মাংসপেশি মজবুত হবে। দুধের মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম ও প্রোটিন আছে যেগুলো মাংসপেশি তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

দুধে ফ্যাট থাকে। মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে মধ্যবয়সীদের অনেকে দুধ খেতে চান না। এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। তাঁদের বেলায় পরামর্শ কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব বয়সের মানুষের দুধের প্রয়োজন আছে। জন্মের পর শিশু মায়ের বুকের দুধ খাবে। প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাবে। এরপর বুকের দুধের পাশাপাশি তাকে অন্য খাবার দিতে হয়। শিশুর বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে কৈশোর এমনকি পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন দুধ খাওয়া উচিত। যাঁরা প্রচুর পরিশ্রম করেন, নিয়মিত হাঁটেন তাঁরা রোজ ২০০ থেকে ২৫০ মিলি পর্যন্ত দুধ খেতে পারেন। কিন্তু যাঁরা কোনো পরিশ্রম করেন না তাঁদের জন্য এক কাপ দুধও বাড়তি ক্যালরির জোগান হয়ে যেতে পারে।

শুধু কিডনি রোগীদের বেলায় দুধ খাওয়ায় বিধি-নিষেধ আছে।

সুস্থ থাকতে নিয়মিত দুধ খেতে হবে
তামান্না চৌধুরী
প্রধান পুষ্টিবিদ, অ্যাপোলো হাসপাতাল, ঢাকা

আরে জেনে নিন

ঢাকা শহরেই পেতে পারেন দেশি গরুর খাঁটি দুধ

‘ধান ভানলে কুড়ো দেব, মাছ কাটলে মুড়ো দেব, কালো গাইয়ের দুধ দেব, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা।’ শহুরে মায়েরা অনেকেই এমন করে কালো গাইয়ের দুধ দেব বলে চাঁদকে কাছে ডাকতে পারেন না। আর তাই শিশুদের জন্য নির্ভর করতে হয় গুঁড়ো দুধের ওপর। অনেক শিশু আবার গুঁড়ো দুধ পছন্দ করে না। সে ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয় প্যাকেটজাত পাস্তুরিত তরল দুধ। চাইলে এই ঢাকা শহরে ঘরে বসেই পেতে পারেন রোজ রোজ অমন কালো দেশি গাইয়ের দুধ। জেনে নিন তার খোঁজ।

ঘরে বসে পাচ্ছেন কিছু উদ্যমী তরুণের উদ্যোগে পরিচালিত শিকড়ের রোদে-মাঠে চরানো দেশি গরুর শতভাগ প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ বিশুদ্ধ কাঁচা দুধ (গ্যারান্টিসহ)

মুয়াজ্জিনের সুললিত কণ্ঠে জেগে ওঠে গ্রামটি। নারী-পুরুষ ছোটেন উঠানের ছোট্ট গোয়ালঘরের দিকে। শুরু হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। গোবর সরিয়ে রাখা হয় নির্দিষ্ট স্থানে। দুধ দুইয়ে দুধভর্তি পাত্র নিয়ে পুরুষরা ছোটেন তা বিক্রি করতে। আর নারীরা তখনও ব্যস্ত গোয়ালঘরের খুঁটি নাটি কাজে। এ যেন প্রতিটি গ্রাম বাংলার অতি পরিচিত একটি দৃশ্য।

কিন্তু ক্ষতিকর পাস্তুরিত দুধ, ভোক্তাদের অনাস্থায় ফিকে হয়ে যায় গ্রামীন এ দৃশ্য। দুধেই যদি বিষ থাকে, তবে বাঁচবেন কী ভাবে? গ্রামগঞ্জের দেশি গরুর দুধ আপনাকে এই বিষের হাত থেকে অনেকটাই বাঁচাতে সক্ষম বলে মনে করছেন প্রাণিবিজ্ঞানী গবেষকরা। মাঠে চরানো দেশি গাভীর সুমিষ্ট দুধের পুষ্টিগুণ যে রয়েছে অবাক করার মতোই তা উঠে আসছে বিভিন্ন গবেষণায়।

দিনের শুরু হওয়া থেকে ঘুমোতে যাওয়া অবধি আমরা যে দুগ্ধ তুলে দেই আমাদের আদরের সন্তানটির মুখে তা শতভাগ বিশুদ্ধ কি না দেখে নিন।

শিকড় দেশী গাভীর সুমিষ্ট দুধের মূল্য
১ লিটার ৯০ টাকা
১/২ লিটার ৪৫ টাকা



আমাদের সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন নাম্বার-
০১৭১১-১০৩৪১২
০১৭১১-১০৩৪১১

ঢাকার মধ্যে হুম ডেলিভারি চার্জ ৫০ টাকা।

ইন শা আল্লাহ পণ্যের মান নিয়ে সন্তুষ্ট না হলে ফেরত দিতে পারবেন। বিক্রিত পণ্য শিকড় ফেরত নিয়ে থাকে। ভেজাল প্রমানে আমরা দ্বিগুণ মূল্য ফেরত দিতে রাজি আছি।

“তরল দুধে ক্ষতিকর উপাদান: উৎপাদনকারীদের ওপর ভোক্তাদের আস্থা কতখানি?

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কয়েকটি পাস্তুরিত তরল দুধের নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিক ও সীসার মত ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাওয়ায় ক্রেতারা শঙ্কায় পড়েছেন।অনেকেই বলছেন, বাজার থেকে তারা দুধ কেনা ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকার একজন গৃহিনী তানজুম আরা তার শিশুদের জন্য প্যাকেটজাত তরল দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে পরিচিত এক ব্যক্তির খামার থেকে বাচ্চাদের খাওয়ার জন্য দুধ সংগ্রহ করছেন তিনি। তার মত আরো অনেকেই বাজার থেকে দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার শঙ্কিত দুধ দিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন খাবারের মান নিয়েও।” বিবিসি বাংলা

পাস্তুরিত দুধ কেন নয়?
পাস্তুরাইজেশনের (প্যাকেটজাত দুধ) মাধ্যমে ধ্বংস করা হচ্ছে …
– হাজারো উপকারি ব্যাকটেরিয়া
– হজমে সহায়তাকারি এনজাইম
– অপরিহার্য মিল্ক প্রোটিন
– অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলস

উপকারি ব্যাকটেরিয়া
দুধে ল্যাকটোব্যাসিলাস, এসিডোফাইলাস ইত্যাদির মত হাজারো উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং ২৩০ ধরনের ই-কোলি (e.coli) ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে মাত্র ২/৩টি ক্ষতিকর আর বাকিগুলো আমাদের অন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারি যেগুলো সবই পাস্তুরাইজেশনে নষ্ট হয়।

এনজাইম
হাড়ে ক্যালসিয়াম শোষণ, ফ্যাট শোষণ ও হাইড্রোলাইজে এবং ল্যাকটোজ হজমে সহায়তাকারি এনজাইম যথাক্রমে ফসফেটেজ, লাইপেজ এবং ল্যাকটেজ পাস্তুরাইজেশনে নষ্ট হয়ে যায়।

মিল্ক প্রোটিন
কাঁচা দুধে বিদ্যমান প্রোটিন/এমাইনো এসিড শরীরের কোষ মেরামত ও বিপাকের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে যা পাস্তুরাইজেশনে নষ্ট হয়ে যায়।

ভিটামিন ও মিনারেলস
পাস্তুরাইজেশনে দুধে বিদ্যমান ভিটামিনের দুই-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যায়। ভিটামিন এ, বি৬ ও বি১২ পুরোপুরি এবং ভিটামিন সি অর্ধেকেরও বেশি নষ্ট হয়ে যায়। দুধে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম ও আয়োডিনের মান নষ্ট হয়। তাছাড়া গরুকে রোদে-মাঠে না নিয়ে কেবল ঘরের মধ্যে বন্দী রেখে কৃত্রিম খাবার খাওয়ালে ভিটামিন পাওয়া যায় না।

অন্যান্য জরুরি উপাদান
ক্যান্সার প্রতিরোধী ও শরীরে অতিরিক্ত চর্বি নিয়ন্ত্রকারী কনজুগেটেড ফ্যাটি এসিড এবং ভারসাম্যপূর্ণ ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডের কার্যকারিতা কমে যায়/নষ্ট হয়।

দেশি গরুর বিশুদ্ধ কাঁচা দুধ কেন খাবেন? গরুর কাঁচা দুধের উপকারিতা-
– গরুর দুধ দেহ শক্তিশালী ও মন তরতাজা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
– আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভে গরুর দুধ অধিক ভূমিকা রাখে।
– মেধা ও মনের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গরুর দুধের জুড়ি নেই।
– গরুর দুধ অবসাদ ও বিষণ্ণতা দূর করে।
– গরুর দুধ ভোক্তাকে দীর্ঘায়ু লাভে সহযোগিতা করে।
– দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের গঠন ও বিকাশে দরকারি।

জাতীয় দুগ্ধ কাউন্সিলের মতে, দুধে নয়টি প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। সেগুলো হলো –

ক্যালসিয়াম – স্বাস্থ্যকর হাড় এবং দাঁত তৈরিতে ভুমিকা রাখে, হাড়ের ভর বজায় রাখে।
প্রোটিন – শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে এবং পেশী তৈরিতে ভুমিকা রাখে।
পটাশিয়াম – স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ফসফরাস – হাড়কে মজবুত করে শক্তি সঞ্চার করতে সাহায্য করে।
ভিটামিন ডি – হাড়ের সুরক্ষায় সাহায্য করে।
ভিটামিন বি-১২ – স্বাস্থ্যকর লাল রক্ত কোষ এবং স্নায়ু টিস্যু বজায় রাখতে ভুমিকা রাখে।
ভিটামিন এ – রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে, দৃষ্টি এবং ত্বক স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
রিবোফ্লাভিন (বি 2) – খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করে।
নিয়াসিন – বিপাকযুক্ত শর্করা এবং ফ্যাট অ্যাসিড।

রোদে-মাঠে চরানো দেশি গরুর বিশুদ্ধ কাঁচা দুধ খেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান, নিজেকে করোনামুক্ত রাখুন।

শিকড়ের ফেসবুক https://www.facebook.com/Shikorpalli/