এবার ঈদে তাঁরা গোপনে কাঁদবেন, যেন কেউ না দেখে

করোনাকালে সীমিত আকারে হলেও নিম্নবিত্তের জন্য রাষ্ট্রীয় সামাজিক সুরক্ষা, ত্রাণ ও ব্যক্তি উদ্যোগের সহায়তা আছে। উচ্চবিত্তের প্রণোদনা আছে, সবচেয়ে বেশি আছে সংকট আর্থ-রাজনৈতিক মোকাবেলার ক্ষমতা। এই দুই শ্রেণিবৃত্ত বিপদে-আপদে ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্রের সহায়তা প্রার্থনা করতে পারে।

বিত্ত যাদের বেশি বা কম নয়, তারাই মধ্যবিত্ত। যদিও মধ্যবিত্তের কোনো সর্বজনগৃহীত সংজ্ঞা নেই। অর্থবিত্তের নৈমিত্তিক টানাটানির মধ্যে ছাপোষা মধ্যবিত্তের জীবনে সবকিছু পজিটিভ হতে হয়।

কারণ, পজিটিভ মানেই ভালো। জীবনভর যে মধ্যবিত্ত নেগেটিভ বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকতে চেয়েছে, এখন এই করোনাকালে টেস্ট রিপোর্টে নেগেটিভ শব্দ দেখার ইচ্ছেটাই তার অভীষ্ট। এই ইচ্ছের সাথে করোনার উপজাত হিসেবে আরো অসংখ্য নেগেটিভ মধ্যবিত্তের সমাজজীবনে প্রবেশ করেছে। শহুরে মধ্যবিত্তরা ভালো নেই, এই কথাটাও সে জোরে বলতে পারে না, পাছে প্রতিবেশী জেনে যায়। আর কে না জানে, সবকিছু চলে গেলেও মধ্যবিত্ত কেবল মর্যাদা ও মূল্যবোধ ধরে বেঁ’চে থাকতে চায়।

ঢাকা শহরকে মধ্যবিত্ত আপন ভাবেনি কখনো, এ শহরও তাকে আপন ভাবে না। ওপরের অংশ বাদ দিলে মধ্যবিত্তের উঠতি অংশই এ নগরের উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা৷ চাকরি, ব্যবসা, উদ্যোগ, সেবা, বেকারত্ব, কেনাকাটা, রাজনীতি, সংষ্কৃতি সবকিছুতেই তাদের অপার অংশগ্রহণ। দুই বেডরুমের সাধারণ কক্ষে বছরের পর বছর ভাড়া থেকে যাদের স্বপ্ন শেষ জীবনে একটি মোটামুটি ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া। এ শহরে হররোজ বসবাস করলেও প্রত্যেকের একটা করে ‘দেশের বাড়ি’ থাকে। দুই ঈদে অদ্ভুতভাবে ঝুলে গাদাগাদি করে মর্মান্তিকভাবে জলে, স্থলে সে গ্রামে ফিরতে চায়। এ শহর যেন তাকে জোর করে আটকে রেখেছিল।

করোনাকালে শারীরিক দূরত্ব, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিজেকে ঘরে বন্দি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। ২০-৩০ বছর বসবাস করেও উঠতি মধ্যবিত্ত ঢাকাবাসীকে এক করোনার রাতে ছোট্ট পিকআপে সওয়ার হয়ে গ্রামে চলে যেতে হয়। বাড়ি ভাড়া তাকে দিতে হবে না, পকেটের বাকি টাকাগুলো ফুরোলে আত্মীয়স্বজন হয়ত দিনকতক তার ডাল-ভাতের জোগান দেবে। কিন্তু করোনাকাল আরো দীর্ঘায়িত হলে কী হবে তা কি আপাত গ্রামে ফিরে যাওয়া উঠতি মধ্যবিত্ত জানে? গ্রামে তো সুযোগ কম। সে কি আবার ফিরতে পারবে ফেলে যাওয়া ঢাকায়, নতুন করে পাততে পারবে সংসার? সূত্র: ডয়চে ভেলে